পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বিস্মৃতি

ছবি
হয়তো কোনো এক ধূসর সন্ধ্যায় আমাদের পথ আর এক হবে না, তুমি হয়তো নতুন কোনো শহরের ব্যস্ততায় খুঁজে নেবে অন্য আশ্রয়। তবুও কি স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে একবারও ভাববে— কতটা প্রহর আমরা কাটিয়েছি ছায়ার মতো পাশাপাশি? বাকি ছিল তো আরও সহস্র আলাপ, আরও কিছু বিষন্ন বিকেলের নীরবতা! ​তোমার চোখের গভীরে কতবার খুঁজেছি নিজের অস্তিত্বের নাম, কতবার নিঃশব্দে লিখেছি আমাদের সেই অসমাপ্ত উপাখ্যান; তবুও যদি আমায় বিস্মৃতির কুয়াশায় হারিয়ে দিতে চাও, দিও— তোমার উদাসীনতার ভিড়ে কতবার হারিয়েছি নিজের সত্তা, তবুও তোমাকে চেনা হয়নি কখনো; আমি তো কেবল তোমার প্রান্তরে ফেলে এসেছি আমার বেঁচে থাকার শেষটুকু স্পন্দন। ​ভালো থেকো তুমি বসন্তের উজ্জ্বল রোদ হয়ে, হাজারো সুখের প্রহরে থেকো অমলিন; আমি না হয় কুয়াশার চাদরে ঢাকা— এক বিস্মৃত, বিলীন, অর্বাচীন, চিহ্নহীন। ​ — মেহেদী হাসান অপু

পথশিশু

ছবি
  মাথার উপর ছাঁদ মানে যাদের খোলা আকাশ,  এক মুঠো অন্নের খোঁজে যাদের হা-হুতাশ,,  অবহেলা, অনাদর যাদের  সকাল,সন্ধ্যা-সাঝেঁ। গৃহহীন এ পথশিশুদের যন্ত্রণা কেউ বুঝে!? প্রতিক্ষণে ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করে, জনস্রোত শহর মাঝে, অগ্নিঝরা রৌদ্র গায়ে পুড়ে, তারা বেঁচে আছে সড়ক,মহাসড়ক আর স্টেশানের ধারে।  জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড মাথায় নিয়ে, তপ্ত রোদের ঘাম শুকিয়ে  এদিক-ওদিক পথের ধারে, আহার খোঁজে উচ্ছিষ্ট মাঝে, চৈত্রের তীব্র-তপ্ত দাবদাহ,  বৈশাখের প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ের আবহ, আর মাঘের হাড়কাঁপানো শীত নিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে, গৃহহীন খোলা আকাশের নিচে,  রাস্তার পাশে ফুটপাতে  অসহ্য যন্ত্রনা আর বিপর্যয়ে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে তারা বাঁচে।  প্রার্থনা শুধু তাদের ঐ বিশ্বপতির দরবারে-তে রক্ষা যেন করে তাদের এই জীবনের গোগ্রাস থেকে। — মেহেদী হাসান অপু 

বিষাদ বিকেল

ছবি
  তুমিহীন এক বিষাদ বিকেলে,  নীড়ে ফেরা পাখির ঝাঁক পথ-হারিয়ে দিকবিদিকশুন্য হয়ে উড়ছে,  শুভ্র মেঘের দল গন্তব্যহীন ছুটে চলেছে, আঁধারের সমুদ্র গিলে খাচ্ছে আস্ত একটা পৃথিবী —মেহেদী হাসান অপু 

নীরবতার কান্না

ছবি
  কখনো কি শুনেছো, নীরবতার কান্না? যেখানে আর্তনাদ নেই, তবু হৃদয় ফেটে যায়? আমি সেই কান্না— অভ্যন্তরের এক বিষাদগ্রস্ত সমুদ্র, যার ঢেউ ওঠে তোমার অব্যক্ত অভিসারে। ​তুমি বলোনি কিছু, তবু প্রতিটি না-বলা শব্দে ছিল একটি গভীর পতন— যেন মহাশূন্যে ঝরে পড়া এক মৃত তারা। ​আমি সেই পতন ধরি দু'হাত ভরে, জানি, আলোর নিকটতম ভাষা অন্ধকার। ​তুমি যদি না-ও থাকো, আমি থাকবো—তোমার না-থাকার ছায়া হয়ে, যেখানে কোনো প্রত্যাবর্তন নেই, তবু প্রতীক্ষা অপার, চিরস্থায়ী। ​আমি এখন ভাষার ঊর্ধ্বে, তোমার প্রনয়ের ধূলিকণায় গড়া এক প্রত্নভাষ্য। প্রতিটি নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয় তোমার অনুপস্থিতির মন্ত্র, যা শুদ্ধ করে বিষণ্ন আত্মাকে। ​তোমার নীরবতা হয়ে উঠেছে আমার একমাত্র আরাধ্য গ্রন্থ— যেখানে শব্দ নেই, শুধু ব্যঞ্জনা, শুধু এক দীর্ঘশ্বাসের দীর্ঘ পথচলা। ​তুমি আসো না— তবু প্রতিটি দিন আমি দরজা খুলে রাখি, যেন তোমার পায়ের ধ্বনি এসে ভেঙে দেয় এই নিস্তব্ধতার অবিরাম প্রাচীর। ​এ আমার অনন্ত কবিতা, যার শেষ চরণে লেখা থাকে শুধু— “তুমি না থেকেও আছো, তাই আমি আর হারাই না।” —মেহেদী হাসান অপু 

এক জীবনের দীর্ঘশ্বাস

ছবি
  ​আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম দূরে বহুদূরে, মাঝখানে এক মহাসমুদ্রের মতো শূন্যতা। তবুও সেই দূরত্ব ভেদ করে যখন আমাদের চোখাচোখি হলো, বুকের ভেতর যেন শতাব্দীর জমাট বাঁধা বরফ ভাঙতে শুরু করল। ​তুই তাকালি, আমিও তাকালাম— কত বছর পর, কত যুগ পর এই সচক্ষে দেখা! কিন্তু হায়, এই দেখার ভেতরে আজ কোনো অধিকার ছিল না, ছিল না কাছে গিয়ে দুটো কথা বলার অবকাশ। ​শুধু দূর থেকে চোখের ইশারায় বিনিময় হলো এক জীবনের দীর্ঘশ্বাস। ​যখন ফিরে আসছিলাম, পা দুটো যেন মাটির সাথে সেঁটে যাচ্ছিল। বুকের পাঁজরে তখন তীব্র এক ভাঙচুরের শব্দ, চোখ বেয়ে নেমে আসতে চাইছিল একলা রাতের সমস্ত কান্না। ​বাস্তবে তোকে দেখার আনন্দটা মুহূর্তেই রূপ নিল এক অসহ্য, সুন্দর বেদনায়। — মেহেদী হাসান অপু 

বাতাসে তোমার নিঃশ্বাস

ছবি
​ দেখা হচ্ছে না তো কী হয়েছে? এই যে তোমার বাড়ির পথ ধরে হেঁটে আসি, পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকি, বাতাস এসে আমাকে ছুঁয়ে যায়, — তাতেই তো আমার হাজার বছরের তৃষ্ণা মিটে যায়। ​আমি খুব ভালো করেই জানি, মাত্র এক মুহূর্ত আগেই এই বাতাস তোমার এলোমেলো চুলগুলোকে ছুঁয়ে এসেছে, তোমার নিঃশ্বাস মিশেছে সে বাতাসে, তোমার গায়ের সুবাসটুকু নিজের মাঝে মাখিয়ে নিয়েছে। ​আর ঠিক পরের মুহূর্তেই তোমাকে স্পর্শ করে আসা সেই হাওয়া এসে চুপচাপ বুক ঘেঁষে দাঁড়ায় আমার। আমাকে স্পর্শ করে যায় সে বাতাস, আমি তখন চোখ দুটো বুজে ফেলি... বুক ভরে টেনে নিই তোমার নিঃশ্বাসের স্পর্শ লেগে থাকা বাতাসটুকু। ​আমাদের চোখ দুটো মুখোমুখি হচ্ছে না, হাত দুটো শক্ত করে ধরা হচ্ছে না... কিচ্ছু যায় আসে না। যে হাওয়া তোমার ছোঁয়া পেয়ে আমার কাছে ছুটে আসে, সে তো কোনো দূরত্ব মানে না। — মেহেদী হাসান অপু

পড়বে কি মনে!

ছবি
 বিশাল অন্তরীক্ষ পানে তাকিয়ে,     পড়বে কি মনে? তুমিহীন আমার বিষাদ বিকেল কতোটা শূন্যতায় কাটে। সূর্য ডোবার পরক্ষনেই আকাশ যখন  তমসাচ্ছন্ন,     আমায় ভেবে তোমার অবচেতন মন,       হবে কি বিষন্ন!  মধ্যরাতের অধীর নির্জনতায়,নিরবতায়,      তিমির রাতের চাঁদ তারাদের দেখে,        তোমার পড়বে কি মনে,? কতো বিনিদ্র রজনী আমি কাটিয়েছি তোমায় ভেবে এই তিমির রাতের চাঁদ তারাদের সাথে।  শ্রাবণের বৃষ্টি দেখে কি তোমার মনে পড়বে? তোমার তীব্র প্রত্যাখানে কতো অযুত-নিযুত বিন্দু বৃষ্টিতে ভিজেছিলো এ নেত্রপল্লব। খোলা আকাশে উদাস দৃষ্টি নিয়ে তুমি দেখো মেঘের ভেলা,    আচ্ছা....  তোমার মনে পড়বে কি!  এ হৃদয়ে তোমায় নিয়ে ছিলো কতো স্বপ্নের মেলা...? এভাবেই কেটে যাবে কতো দিবস,রজনী,বরষ,মাস, কতো অজস্র বেলা। তারপর... তারপর  একদিন চলে যাবো প্রিয়,  কোনো এক দূরদেশে নিরুদ্দেশ হয়ে,  আমায় কি পড়বে মনে, তোমার বিষন্নতার দিনে? ​— মেহেদী হাসান অপু