পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দূরত্ব ও ধ্রুবক

ছবি
  ​তুমি আর আমি যেন দুটো সমান্তরাল রেখা, অনন্তকাল পাশাপাশি হেঁটে চলা— অথচ কোনোদিন কোনো এক বিন্দুতে স্পর্শ না হওয়ার অমোঘ, আদিম অভিশাপ। ​যে গভীরতা মাপা যায় না শব্দের স্কেলে, যে দূরত্ব মেটানো যায় না সামান্য আলিঙ্গনে, আমাদের ভালোবাসা হয়তো ঠিক ততখানিই দূরবর্তী— অথচ মহাকর্ষের মতো সত্য।  ​তোমাকে চাওয়া মানে আলো আর আঁধারের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা, যেখানে পাওয়ার কোনো উল্লাস নেই, শুধুই না-পাওয়ার হাহাকার। শুধু স্তব্ধতার অন্তরালে এক অলৌকিক উপস্থিতি, যা রয়ে যায়—চেতনার সবচেয়ে গভীর ও স্পর্শাতীত স্তরে। —মেহেদী হাসান অপু 

মদিনার ধ্রুবতাঁরা

ছবি
 তপ্ত দুপুরে উম্মত পেয়েছে তোমারই শীতল ছায়া, মরুর দহনে তুমিই তো দিলে রহমতের মায়া। নিখিলের বুকে তুমি এলে যবে নিভৃত আলোর বেশে, শতাব্দীর যত অন্ধকার—মুছে গেল অবশেষে। ​তুমি শাশ্বত এক নূরের মিনার, মদিনার ধ্রুবতারা যাঁর আগমনে আলোর দেখা পেলো এই দিশেহারা সাহারা। তোমার অশ্রু ঝরেছে কেবল উম্মত-ত্রাণে আজীবন, তোমারই পরশে পূর্ণতা পায় এই রিক্ত, তৃষ্ণার্ত মন। গুনাহের ভারে নুয়েছি অধম, পাপে ভরা মোর তরী, হাশরের সেই দহন বেলায় কেমনে দিবো পাড়ি? যেদিন সূর্য আসিবে নিকটে, জমিন হইবে তামা— তোমার শাফায়াত বিহীন কেবল—দণ্ডই হবে জমা —মেহেদী হাসান অপু 

ধূসর মানচিত্র

ছবি
  ​শহরের এই ব্যস্ত সকালে যখন সবার গন্তব্য সুনিশ্চিত, আমি তখন ঘরের চার দেয়ালে নিজের অযোগ্যতার সাথে সন্ধি করি। আমার কাছে সকাল মানে নতুন সূর্য নয়, বরং আরও একবার হেরে যাওয়ার মহড়া; হতাশা যখন রক্তে মিশে যায়, তখন একাকীত্ব হয়ে ওঠে একমাত্র ধর্ম; একাকীত্ব এখন আর আমার কাছে বিলাসিতা নয়, এটি এক অনিবার্য দণ্ড— যেখানে বেকারত্বের বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে আসে আমার আগামীর মানচিত্র। এখানে বেকারত্ব মানে এক জীবন্ত কবরের ভেতর দাঁড়িয়ে সাফল্যের কোলাহল শোনা— পকেটে এখন আর রঙিন স্বপ্ন থাকে না, আছে কেবল নিজের ব্যর্থতার এক অদৃশ্য ওজন— যা বয়ে বেড়াতে বেড়াতে আমার পা দুটো আজ বড্ড ক্লান্ত। ​চায়ের দোকানে পরিচিত মুখগুলো দেখলে যখন গলি বদলে ফেলি, তখন নিজেরই ছায়া আমাকে উপহাস করে এক আজন্ম পরাজিত মানুষের মতো। হতাশা যখন পাকস্থলীর দেয়াল কামড়ে ধরে, তখন প্রেম কিংবা বিদ্রোহ— সবই মনে হয় এক একটা সস্তা ও কদর্য কৌতুক। মা-বাবার নীরব চোখের সামনে দিয়ে যখন অপরাধীর মতো হেঁটে যাই, তখন মনে হয়—অযোগ্যতার চেয়ে বড় কোনো পাপ এই পৃথিবীতে আর নেই। বেকারত্ব কেবল পকেট শূন্য করে না, এটি তিলে তিলে গিলে খ...

একজন ছিলো

ছবি
  ​ নাও, কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনলে আমি আর নেই, ধরেহারিয়ে গেছি— যেখানে যোগাযোগের সব পথ চিরতরে বন্ধ। ​তুমি কি খুব স্বাভাবিকভাবে তোমার দিনটা শুরু করতে পারবে? নাকি হঠাৎ বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠবে— কিঞ্চিৎ পাগল সেই মানুষটা সত্যি সত্যি বিদায় নিয়ে নিলো? ​তোমার খুব বেশি আনন্দের দিনে, কিংবা খুব বিষণ্ণ কোনো সন্ধ্যায়— অথবা মন খারাপের কোনো নির্ঘুম রাতে,,, ​হঠাৎ কি মনে পড়ে যাবে না? একজন ছিল! ​— মেহেদি হাসান অপু