পোস্টগুলি

দূরত্ব ও ধ্রুবক

ছবি
  ​তুমি আর আমি যেন দুটো সমান্তরাল রেখা, অনন্তকাল পাশাপাশি হেঁটে চলা— অথচ কোনোদিন কোনো এক বিন্দুতে স্পর্শ না হওয়ার অমোঘ, আদিম অভিশাপ। ​যে গভীরতা মাপা যায় না শব্দের স্কেলে, যে দূরত্ব মেটানো যায় না সামান্য আলিঙ্গনে, আমাদের ভালোবাসা হয়তো ঠিক ততখানিই দূরবর্তী— অথচ মহাকর্ষের মতো সত্য।  ​তোমাকে চাওয়া মানে আলো আর আঁধারের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা, যেখানে পাওয়ার কোনো উল্লাস নেই, শুধুই না-পাওয়ার হাহাকার। শুধু স্তব্ধতার অন্তরালে এক অলৌকিক উপস্থিতি, যা রয়ে যায়—চেতনার সবচেয়ে গভীর ও স্পর্শাতীত স্তরে। —মেহেদী হাসান অপু 

মদিনার ধ্রুবতাঁরা

ছবি
 তপ্ত দুপুরে উম্মত পেয়েছে তোমারই শীতল ছায়া, মরুর দহনে তুমিই তো দিলে রহমতের মায়া। নিখিলের বুকে তুমি এলে যবে নিভৃত আলোর বেশে, শতাব্দীর যত অন্ধকার—মুছে গেল অবশেষে। ​তুমি শাশ্বত এক নূরের মিনার, মদিনার ধ্রুবতারা যাঁর আগমনে আলোর দেখা পেলো এই দিশেহারা সাহারা। তোমার অশ্রু ঝরেছে কেবল উম্মত-ত্রাণে আজীবন, তোমারই পরশে পূর্ণতা পায় এই রিক্ত, তৃষ্ণার্ত মন। গুনাহের ভারে নুয়েছি অধম, পাপে ভরা মোর তরী, হাশরের সেই দহন বেলায় কেমনে দিবো পাড়ি? যেদিন সূর্য আসিবে নিকটে, জমিন হইবে তামা— তোমার শাফায়াত বিহীন কেবল—দণ্ডই হবে জমা —মেহেদী হাসান অপু 

ধূসর মানচিত্র

ছবি
  ​শহরের এই ব্যস্ত সকালে যখন সবার গন্তব্য সুনিশ্চিত, আমি তখন ঘরের চার দেয়ালে নিজের অযোগ্যতার সাথে সন্ধি করি। আমার কাছে সকাল মানে নতুন সূর্য নয়, বরং আরও একবার হেরে যাওয়ার মহড়া; হতাশা যখন রক্তে মিশে যায়, তখন একাকীত্ব হয়ে ওঠে একমাত্র ধর্ম; একাকীত্ব এখন আর আমার কাছে বিলাসিতা নয়, এটি এক অনিবার্য দণ্ড— যেখানে বেকারত্বের বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে আসে আমার আগামীর মানচিত্র। এখানে বেকারত্ব মানে এক জীবন্ত কবরের ভেতর দাঁড়িয়ে সাফল্যের কোলাহল শোনা— পকেটে এখন আর রঙিন স্বপ্ন থাকে না, আছে কেবল নিজের ব্যর্থতার এক অদৃশ্য ওজন— যা বয়ে বেড়াতে বেড়াতে আমার পা দুটো আজ বড্ড ক্লান্ত। ​চায়ের দোকানে পরিচিত মুখগুলো দেখলে যখন গলি বদলে ফেলি, তখন নিজেরই ছায়া আমাকে উপহাস করে এক আজন্ম পরাজিত মানুষের মতো। হতাশা যখন পাকস্থলীর দেয়াল কামড়ে ধরে, তখন প্রেম কিংবা বিদ্রোহ— সবই মনে হয় এক একটা সস্তা ও কদর্য কৌতুক। মা-বাবার নীরব চোখের সামনে দিয়ে যখন অপরাধীর মতো হেঁটে যাই, তখন মনে হয়—অযোগ্যতার চেয়ে বড় কোনো পাপ এই পৃথিবীতে আর নেই। বেকারত্ব কেবল পকেট শূন্য করে না, এটি তিলে তিলে গিলে খ...

একজন ছিলো

ছবি
  ​ নাও, কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনলে আমি আর নেই, ধরেহারিয়ে গেছি— যেখানে যোগাযোগের সব পথ চিরতরে বন্ধ। ​তুমি কি খুব স্বাভাবিকভাবে তোমার দিনটা শুরু করতে পারবে? নাকি হঠাৎ বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠবে— কিঞ্চিৎ পাগল সেই মানুষটা সত্যি সত্যি বিদায় নিয়ে নিলো? ​তোমার খুব বেশি আনন্দের দিনে, কিংবা খুব বিষণ্ণ কোনো সন্ধ্যায়— অথবা মন খারাপের কোনো নির্ঘুম রাতে,,, ​হঠাৎ কি মনে পড়ে যাবে না? একজন ছিল! ​— মেহেদি হাসান অপু

বিস্মৃতি

ছবি
হয়তো কোনো এক ধূসর সন্ধ্যায় আমাদের পথ আর এক হবে না, তুমি হয়তো নতুন কোনো শহরের ব্যস্ততায় খুঁজে নেবে অন্য আশ্রয়। তবুও কি স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে একবারও ভাববে— কতটা প্রহর আমরা কাটিয়েছি ছায়ার মতো পাশাপাশি? বাকি ছিল তো আরও সহস্র আলাপ, আরও কিছু বিষন্ন বিকেলের নীরবতা! ​তোমার চোখের গভীরে কতবার খুঁজেছি নিজের অস্তিত্বের নাম, কতবার নিঃশব্দে লিখেছি আমাদের সেই অসমাপ্ত উপাখ্যান; তবুও যদি আমায় বিস্মৃতির কুয়াশায় হারিয়ে দিতে চাও, দিও— তোমার উদাসীনতার ভিড়ে কতবার হারিয়েছি নিজের সত্তা, তবুও তোমাকে চেনা হয়নি কখনো; আমি তো কেবল তোমার প্রান্তরে ফেলে এসেছি আমার বেঁচে থাকার শেষটুকু স্পন্দন। ​ভালো থেকো তুমি বসন্তের উজ্জ্বল রোদ হয়ে, হাজারো সুখের প্রহরে থেকো অমলিন; আমি না হয় কুয়াশার চাদরে ঢাকা— এক বিস্মৃত, বিলীন, অর্বাচীন, চিহ্নহীন। ​ — মেহেদী হাসান অপু

পথশিশু

ছবি
  মাথার উপর ছাঁদ মানে যাদের খোলা আকাশ,  এক মুঠো অন্নের খোঁজে যাদের হা-হুতাশ,,  অবহেলা, অনাদর যাদের  সকাল,সন্ধ্যা-সাঝেঁ। গৃহহীন এ পথশিশুদের যন্ত্রণা কেউ বুঝে!? প্রতিক্ষণে ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করে, জনস্রোত শহর মাঝে, অগ্নিঝরা রৌদ্র গায়ে পুড়ে, তারা বেঁচে আছে সড়ক,মহাসড়ক আর স্টেশানের ধারে।  জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড মাথায় নিয়ে, তপ্ত রোদের ঘাম শুকিয়ে  এদিক-ওদিক পথের ধারে, আহার খোঁজে উচ্ছিষ্ট মাঝে, চৈত্রের তীব্র-তপ্ত দাবদাহ,  বৈশাখের প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ের আবহ, আর মাঘের হাড়কাঁপানো শীত নিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে, গৃহহীন খোলা আকাশের নিচে,  রাস্তার পাশে ফুটপাতে  অসহ্য যন্ত্রনা আর বিপর্যয়ে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে তারা বাঁচে।  প্রার্থনা শুধু তাদের ঐ বিশ্বপতির দরবারে-তে রক্ষা যেন করে তাদের এই জীবনের গোগ্রাস থেকে। — মেহেদী হাসান অপু 

বিষাদ বিকেল

ছবি
  তুমিহীন এক বিষাদ বিকেলে,  নীড়ে ফেরা পাখির ঝাঁক পথ-হারিয়ে দিকবিদিকশুন্য হয়ে উড়ছে,  শুভ্র মেঘের দল গন্তব্যহীন ছুটে চলেছে, আঁধারের সমুদ্র গিলে খাচ্ছে আস্ত একটা পৃথিবী —মেহেদী হাসান অপু