না পাওয়ার বেদনা, বিষন্নতা, অব্যক্ত প্রেম এবং একাকীত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক কবিতার ভুবন। যেখানে প্রেম ও বিরহের পাশাপাশি রাজনীতি, বিপ্লব আর চারপাশের চেনা বাস্তবতার গল্পগুলো রূপ নেয় কবি মেহেদী হাসান অপুর স্বরচিত লেখায়
হয়তো কোনো এক ধূসর সন্ধ্যায় আমাদের পথ আর এক হবে না, তুমি হয়তো নতুন কোনো শহরের ব্যস্ততায় খুঁজে নেবে অন্য আশ্রয়। তবুও কি স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে একবারও ভাববে— কতটা প্রহর আমরা কাটিয়েছি ছায়ার মতো পাশাপাশি? বাকি ছিল তো আরও সহস্র আলাপ, আরও কিছু বিষন্ন বিকেলের নীরবতা! তোমার চোখের গভীরে কতবার খুঁজেছি নিজের অস্তিত্বের নাম, কতবার নিঃশব্দে লিখেছি আমাদের সেই অসমাপ্ত উপাখ্যান; তবুও যদি আমায় বিস্মৃতির কুয়াশায় হারিয়ে দিতে চাও, দিও— তোমার উদাসীনতার ভিড়ে কতবার হারিয়েছি নিজের সত্তা, তবুও তোমাকে চেনা হয়নি কখনো; আমি তো কেবল তোমার প্রান্তরে ফেলে এসেছি আমার বেঁচে থাকার শেষটুকু স্পন্দন। ভালো থেকো তুমি বসন্তের উজ্জ্বল রোদ হয়ে, হাজারো সুখের প্রহরে থেকো অমলিন; আমি না হয় কুয়াশার চাদরে ঢাকা— এক বিস্মৃত, বিলীন, অর্বাচীন, চিহ্নহীন। — মেহেদী হাসান অপু
দেখা হচ্ছে না তো কী হয়েছে? এই যে তোমার বাড়ির পথ ধরে হেঁটে আসি, পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকি, বাতাস এসে আমাকে ছুঁয়ে যায়, — তাতেই তো আমার হাজার বছরের তৃষ্ণা মিটে যায়। আমি খুব ভালো করেই জানি, মাত্র এক মুহূর্ত আগেই এই বাতাস তোমার এলোমেলো চুলগুলোকে ছুঁয়ে এসেছে, তোমার নিঃশ্বাস মিশেছে সে বাতাসে, তোমার গায়ের সুবাসটুকু নিজের মাঝে মাখিয়ে নিয়েছে। আর ঠিক পরের মুহূর্তেই তোমাকে স্পর্শ করে আসা সেই হাওয়া এসে চুপচাপ বুক ঘেঁষে দাঁড়ায় আমার। আমাকে স্পর্শ করে যায় সে বাতাস, আমি তখন চোখ দুটো বুজে ফেলি... বুক ভরে টেনে নিই তোমার নিঃশ্বাসের স্পর্শ লেগে থাকা বাতাসটুকু। আমাদের চোখ দুটো মুখোমুখি হচ্ছে না, হাত দুটো শক্ত করে ধরা হচ্ছে না... কিচ্ছু যায় আসে না। যে হাওয়া তোমার ছোঁয়া পেয়ে আমার কাছে ছুটে আসে, সে তো কোনো দূরত্ব মানে না। — মেহেদী হাসান অপু
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন