নীরবতার কান্না

 


কখনো কি শুনেছো, নীরবতার কান্না?

যেখানে আর্তনাদ নেই, তবু হৃদয় ফেটে যায়?

আমি সেই কান্না—

অভ্যন্তরের এক বিষাদগ্রস্ত সমুদ্র,

যার ঢেউ ওঠে তোমার অব্যক্ত অভিসারে।


​তুমি বলোনি কিছু,

তবু প্রতিটি না-বলা শব্দে ছিল

একটি গভীর পতন—

যেন মহাশূন্যে ঝরে পড়া এক মৃত তারা।


​আমি সেই পতন ধরি দু'হাত ভরে,

জানি, আলোর নিকটতম ভাষা অন্ধকার।


​তুমি যদি না-ও থাকো,

আমি থাকবো—তোমার না-থাকার ছায়া হয়ে,

যেখানে কোনো প্রত্যাবর্তন নেই,

তবু প্রতীক্ষা অপার, চিরস্থায়ী।


​আমি এখন ভাষার ঊর্ধ্বে,

তোমার প্রনয়ের ধূলিকণায় গড়া এক প্রত্নভাষ্য।

প্রতিটি নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয়

তোমার অনুপস্থিতির মন্ত্র,

যা শুদ্ধ করে বিষণ্ন আত্মাকে।


​তোমার নীরবতা হয়ে উঠেছে

আমার একমাত্র আরাধ্য গ্রন্থ—

যেখানে শব্দ নেই, শুধু ব্যঞ্জনা,

শুধু এক দীর্ঘশ্বাসের দীর্ঘ পথচলা।


​তুমি আসো না—

তবু প্রতিটি দিন আমি দরজা খুলে রাখি,

যেন তোমার পায়ের ধ্বনি এসে

ভেঙে দেয় এই নিস্তব্ধতার অবিরাম প্রাচীর।


​এ আমার অনন্ত কবিতা,

যার শেষ চরণে লেখা থাকে শুধু—

“তুমি না থেকেও আছো,

তাই আমি আর হারাই না।”


—মেহেদী হাসান অপু 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিস্মৃতি

বাতাসে তোমার নিঃশ্বাস

পথশিশু